ওয়েব ডেস্ক : মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা মতো জুলাইয়ের ১ তারিখ থেকেই বহু উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ঢুকতে শুরু করেছে। অন্যদিকে, যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও যাঁরা এখনও এই প্রকল্পের টাকা পাননি, তাঁদের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ ও হতাশা। আর সেই ক্ষোভ পরপর দুদিন, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার আছড়ে পড়ে অশোকনগর কল্যাণগড় পুরসভায়। অভিযোগ, বহু প্রকৃত প্রাপক এই প্রকল্পে এখনও বঞ্চিত। অথচ তাঁদের পাশের বাড়ির তুলনামূলকভাবে সচ্ছল পরিবারের মহিলারা, এমনকি যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ যাওয়ার কথা, তাঁরাও টাকা পেয়েছেন। এই বৈষম্যের অভিযোগে শুক্রবার সকাল থেকেই পুরসভায় ভিড় জমান বিক্ষুব্ধ মহিলারা। এদিন পুরসভার ভিতরে ঢুকে তাঁরা চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুরসভার কর্মীরা তাঁদের নাম ও ফোন নম্বর নথিভুক্ত করার ব্যবস্থা করেন। লাইনে দাঁড়িয়ে নিজেদের নাম লিখে যান বহু মহিলা। যদিও তাঁদের অনেকেরই আশঙ্কা, শুধু নাম নথিভুক্ত করলেই সমস্যার সমাধান হবে না।

বিক্ষুব্ধ মহিলাদের বক্তব্য, গত দু’মাস ধরে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা বন্ধ থাকার কারণে সংসারে চরম আর্থিক সংকট তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর তাঁরা আশা করেছিলেন, অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকা তাঁদের অ্যাকাউন্টে জমা পড়বে এবং সেই টাকা দিয়ে কিছু জরুরি খরচ মেটাতে পারবেন। কিন্তু টাকা না আসায় এখন চরম অনিশ্চয়তা ও হতাশায় ভুগছেন তাঁরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অশোকনগর থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে একাধিকবার পুরসভার ভেতরে প্রবেশ করতে হয়। এদিকে বিজেপি যুব মোর্চা ও বিজেপির স্থানীয় দুই নেতা অভিযোগ করেছেন, এই গোটা ঘটনার পেছনে তৃণমূল এবং সিপিএমের কিছু কর্মীর ভূমিকা রয়েছে, যারা এখনও পুরসভার কাজকর্মে প্রভাব খাটাচ্ছেন। তবে একাধিক গৃহবধূদের প্রশ্ন, যদি এমন অনিয়ম হয়েই থাকে, তাহলে প্রশাসন কেন তা রুখতে পারছে না? বিধায়কের দ্বারস্থ হয়েও এখনও কোনও স্পষ্ট সমাধান মেলেনি বলে দাবি করছেন তাঁরা। সব মিলিয়ে যেভাবে ক্ষোভ বাড়ছে, তাতে আগামী দিনে পুরসভায় আরও বড় অশান্তির আশঙ্কা করছেন অনেকে। জানা গিয়েছে, এদিন এই বিক্ষোভের জেরে কিছুটা সময় পুরসভায় থাকার পর বেরিয়ে যান পুরসভার কার্যনির্বাহী আধিকারিক।

ছবি : পার্থ মিত্র

67 Views