ওয়েব ডেস্ক : দাঁতের ব্যথায় তিন দিন স্কুলে যেতে পারেনি চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রী। বৃহস্পতিবার স্কুলে গিয়ে পড়া বলতে না পারায় বেধড়ক মারধর করেন এক শিক্ষিকা। এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরের নিউ কাঁকপুল প্রাইমারি স্কুলে। অভিযোগ, অশোকনগর কচুয়া এলাকার ওই ছাত্রী দাঁতের তীব্র ব্যথার কারণে টানা তিন দিন স্কুলে যেতে পারেনি। বৃহস্পতিবার স্কুলে এসে শিক্ষিকার প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারায় অভিযুক্ত শিক্ষিকা ঝুমা সরকার তাকে বেধড়ক মারধর করেন। ছাত্রীর পরিবারের দাবি, স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফিরে মেয়ের দুই হাতে কালশিটের দাগ দেখতে পান মা পূজা সমদ্দার। প্রথমে ভয়ে কিছু না বললেও পরে কান্নায় ভেঙে পড়ে ছাত্রীটি এবং শিক্ষিকার মারধরের অভিযোগ জানায়। এরপর বৃহস্পতিবার রাতেই পরিবারের সদস্যরা অশোকনগর থানায় গিয়ে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানান। শুক্রবার সকালে আহত ছাত্রীকে নিয়ে স্কুলে পৌঁছে প্রধান শিক্ষকের সামনে বিক্ষোভ দেখান পরিবারের সদস্যরা।
অভিযোগ, ওই সময় অভিযুক্ত শিক্ষিকা নিজের ভুল স্বীকার করলেও অন্য এক শিক্ষিকার আচরণে আরও ক্ষোভ বাড়ে অভিভাবকদের। মুহূর্তেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে স্কুল চত্বর। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোন বিজেপির মণ্ডল সভাপতি রিঙ্কি সুর, সুব্রত গোস্বামী প্রমুখ। তাঁরা ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলেন। স্কুলের প্রধান শিক্ষক দেবাশীষ আচার্য ঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশ করে বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে মিটিয়ে নেওয়ার আবেদন জানান। আহত ছাত্রীর মা পূজা সমাদ্দার আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, প্রতিবাদ করার কারণে ভবিষ্যতে তাঁর মেয়ের সঙ্গে কোনও ধরনের বৈষম্যমূলক বা খারাপ আচরণ করা হতে পারে। অন্যদিকে বিজেপি নেত্রী রিঙ্কি সুর জানান, ছাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে।ঘটনাকে ঘিরে এলাকাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযুক্ত শিক্ষিকা অবশ্য ঘটনার জন্য বারংবার দুঃখ প্রকাশ করেছেন। বেসরকারি স্কুলের সঙ্গে ইঁদুর দৌড়ে ক্রমশই পিছিয়ে পড়ছে সরকারি স্কুল। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষিকার এমন অমানবিক আচরণ সরকারি স্কুলগুলিতে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা আরও কমিয়ে দেবে বলেই আশঙ্কা করছেন সাধারণ মানুষ।

