ওয়েব ডেস্ক : একজন গবাদি পশু পরিবহণকারীকে পিটিয়ে হত্যার দায়ে সাতজন ‘গো-রক্ষক’ (cow vigilant)-এর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সাজা ঘোষণার পর মধ্যপ্রদেশের এক বিচারককে হুমকি ও অপপ্রচারের শিকার হতে হয়। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের একটি সংগঠন। পাশাপাশি ওই সংগঠন বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখার আহ্বান জানিয়েছে। ১ জুলাই বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে, ‘সুপ্রিম কোর্ট অ্যাডভোকেটস অন রেকর্ড অ্যাসোসিয়েশন’ (SCAORA) নর্মদাপুরম জেলার বিচারক তাবাসসুম খানের বিরুদ্ধে চালানো প্রচারের ‘দ্ব্যর্থহীন নিন্দা’ জানিয়েছে।
ওই সংগঠনটি উল্লেখ করেছে যে, ‘এ ধরনের আচরণ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের ভিত্তিমূলে আঘাত হেনেছে।’ SCAORA বলেছে, ‘আইন অনুযায়ী রায় প্রদানের জন্য বিচারকদের যদি ব্যক্তিগত পরিণতির আশঙ্কায় রাখা হয়, তবে তা জেলা আদালতগুলোর স্বাধীনতা ও কার্যকারিতার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।’ সংগঠনটির মতে, কোনও রায়কে চ্যালেঞ্জ করার সঠিক উপায় হলো উচ্চ আদালতে আপিল করা, ‘বিচারকদের বিরুদ্ধে ভয় দেখানো, অপপ্রচার চালানো বা হুমকি দেওয়া নয়।’

ওই বিবৃতিতে SCAORA লিখেছে, এই স্বাধীনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, জেলা আদালতগুলো ভারতীয় বিচার ব্যবস্থার ‘মেরুদণ্ড’ হিসেবে কাজ করে,  তাই বিচার বিভাগের এই স্তরের কার্যকারিতা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবশ্যই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে। বিচারক খানের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে SCAORA আশা প্রকাশ করেছে যে, তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ‘প্রতিটি বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার স্বাধীনতা ও মর্যাদা সমুন্নত রাখার’ জন্যও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের আগস্ট মাসে নর্মদাপুরামে গবাদি পশু পরিবহণকারী নাজির আহমেদকে পিটিয়ে হত্যার (লিঞ্চিং) দায়ে গত ১২ জুন বিচারক খান সাত ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করার পাশাপাশি তিনি তাঁদের সশস্ত্র দাঙ্গা ও হত্যার চেষ্টার অপরাধেও দোষী সাব্যস্ত করেন। ওই ব্যক্তিরা আহমেদের সঙ্গী শেখ লালা ও শেখ মুশতাকের ওপরও হামলা চালিয়েছিল, তবে তাঁরা প্রাণে বেঁচে যান। রায় ঘোষণার পরবর্তী দিনগুলোতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী সোশ্যাল মিডিয়ায় কয়েকজন বিচারক খানের বিরুদ্ধে ‘ধর্মের ভিত্তিতে’ রায় দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। এছাড়া এক ব্যক্তি বিচারককে গালিগালাজ করার পাশাপাশি হুমকি দেন যে, দোষীদের মুক্তি না দেওয়া হলে ‘গণহত্যা’ চালানো হবে। অনেক পোস্টে ভুলবশত দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির সংখ্যা ১৪ জন বলেও উল্লেখ করা হয়। খবর অনুযায়ী, ‘এক্স’ (X)-এর একটি অ্যাকাউন্ট থেকে বিচারক খানকে ‘দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার’ জন্য হিন্দুদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। যদিও অ্যাকাউন্টটি পরে মুছে ফেলা হয়েছে বলে মনে হয়। একদল মানুষ বিচারক খানের কুশপুত্তলিকাও দাহ করে। সংবাদ মাধ্যম ‘নিউজলন্ড্রি’ (Newslaundry)-কে নর্মদাপুরামের সিওনি মালওয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান যে, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে ২৩ জুন পুলিশ দু’জনের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করেছে। বুধবার ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ জানিয়েছে যে, পুলিশ বিচারক খানের নিরাপত্তা জোরদার করেছে।

56 Views