ওয়েব ডেস্ক : ২১ ডিসেম্বর কলকাতায় থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য এইচএলএ টেস্টিং ক্যাম্প
করবে নারায়ণা হেলথ, বেঙ্গালুরু। সহযোগিতায় থাকছে ডিকেএমএস, থ্যালাসেমিক্স ইন্ডিয়া, কোল ইন্ডিয়া, ফেডারেশন অফ ব্লাড ডোনার অর্গানাইজেশনস অফ ইন্ডিয়া এবং পশ্চিম বঙ্গ সিকিম প্রান্তীয় মাড়োয়ারী যুব মঞ্চ।
এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই খবর জানিয়েছে নারায়ণা হেলথ। তারা আরও জানিয়েছে, ড. সুনীল ভাটের নেতৃত্বে নারায়ণার এই উদ্যোগের লক্ষ্য, থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুদের জন্য বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্টের সুযোগ বৃদ্ধি করা।
থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুদের নিরাময়মূলক চিকিৎসার সুযোগ উন্নত করার উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা হিসেবে, নারায়ণা হেলথ ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে কলকাতায় পূর্ব ভারতের বৃহত্তম এই এইচএলএ টেস্টিং ক্যাম্পের আয়োজন করছে। ব্যাঙ্গালোরের নারায়ণা হেলথ সিটির পেডিয়াট্রিক হেমাটোলজি, অনকোলজি এবং ব্লাড অ্যান্ড ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টেশনের পরিচালক এবং প্রধান ড. সুনীল ভাটের নেতৃত্বে এই উদ্যোগের লক্ষ্য, ৫০০ জনেরও বেশি থ্যালাসেমিয়া রোগী এবং তাদের পরিবারের সম্ভাব্য অস্থি মজ্জা প্রতিস্থাপন মিল খুঁজে বের করার জন্য স্ক্রিন করা।

থ্যালাসেমিয়া এখনও ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সমস্যা। বিশেষ করে পূর্ব ভারতে এর বেশ প্রভাব রয়েছে। হাজারও শিশু নিয়মিত রক্ত সঞ্চালনের ওপর নির্ভরশীল হলেও, বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট এই রোগের স্থায়ী নিরাময় এবং স্বাভাবিক জীবনে ফেরার একমাত্র উপায়। এ বিষয়ে নারায়ণা হেলথ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ড. দেবী প্রসাদ শেঠি বলেন, ‘নারায়ণা হেলথ-এ আমরা বিশ্বাস করি, একটি স্থায়ী নিরাময় প্রত্যেক শিশুর মৌলিক অধিকার’। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের অঙ্গীকার—নিরাময়মূলক চিকিৎসাকে সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করা এবং যেন কোনও আর্থিক বাধা একটি শিশুর স্বাভাবিক, সুস্থ জীবনের মাঝে না দাঁড়ায়।’ উল্লেখ্য, বিনামূল্যের এই এইচএলএ টেস্টিং ক্যাম্পটি ১২ বছরের নিচে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুদের জন্য উন্মুক্ত।
নারায়ণা হেলথ দেশজুড়ে অন্যতম উন্নত বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট প্রোগ্রাম পরিচালনা করে, যার মূল কেন্দ্র বেঙ্গালুরুর নারায়ণা হেলথ সিটি। ইতিমধ্যে ২,৫০০-এরও বেশি সফল ট্রান্সপ্লান্ট সম্পন্ন হওয়ায় এটি দেশের বৃহত্তম ও সর্বাধিক আস্থাযোগ্য কেন্দ্রগুলির একটি হয়ে উঠেছে। জানা গিয়েছে, টেস্ট ক্যাম্পে উপযুক্ত ম্যাচ শনাক্ত হলে পরিবারগুলোকে নিরাময়ের পথে এগিয়ে যেতে আর্থিক সহায়তাও প্রদান করা হবে।
এই উদ্যোগের লক্ষ্য সম্পর্কে ড. সুনীল ভাট বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো, এই ক্যাম্পের মাধ্যমে এইচএলএ-ম্যাচযুক্ত পরিবারগুলোকে শনাক্ত করে আমরা তাদের চিকিৎসার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপে পৌঁছাতে সাহায্য করতে পারি। প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষা এবং সময়মতো পদক্ষেপ একটি শিশুর জীবন বদলে দিতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি মেডিকেল কলেজের থ্যালাসেমিয়া সেন্টার, ব্লাড ব্যাংক, রেড ক্রস সোসাইটি এবং বিভিন্ন এনজিওর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে এই উদ্যোগকে সর্বস্তরে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
এইচএলএ টেস্টিং ক্যাম্পটি ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে কলকাতার নারায়ণা আর.এন. টেগোর হাসপাতাল, মুকুন্দপুর-এ অনুষ্ঠিত হবে।

196 Views