ওয়েব ডেস্ক : কর্তব্যরত সাংবাদিকদের জোর করে বের করে দিয়ে ইউনাইটেড নিউজ এজেন্সি অফিস সীল করেছে পুলিশ। ২১ মার্চ শনিবার এ ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে বিভিন্ন গণমাধ্যম সংস্থা। দিল্লিতে ইউনাইটেড নিউজ অফ ইন্ডিয়া (ইউএনআই) অফিস থেকে সাংবাদিকদের উচ্ছেদ করার সময় ‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের’ অভিযোগও করেছে তারা। গত ২০ মার্চ শুক্রবার আদালতের একটি আদেশের পর ইউএনএ-র এই অফিসটি খালি করে সিল করে দেওয়া হয়। প্রেস ক্লাব অফ ইন্ডিয়া (পিসিআই) কর্মরত অবস্থায় সাংবাদিকদের ‘হেনস্থার’ ঘটনায় যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। প্রেস ক্লাব অফ ইন্ডিয়া জানিয়েছে, শুক্রবার দুপুর দেড়টায় আদালতের আদেশ ঘোষণা করা হলেও, তা আদালতের ওয়েবসাইটে আপলোড করার আগেই পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী ইউএনআই প্রাঙ্গণে পৌঁছে কর্তব্যরত সাংবাদিকদের বের করে দেয়।

এক বিবৃতিতে, এডিটরস গিল্ড অফ ইন্ডিয়া (ইজিআই) হাইকোর্টের নির্দেশ প্রয়োগে ‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ’ এবং ‘অযাচিত তাড়াহুড়োর’ নিন্দা করেছে। ইজিআই বলেছে, ‘যদিও গিল্ড হাইকোর্টের আদেশ বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে না, তবে যথাযথ প্রক্রিয়ার অভাব এবং আদালতের নির্দেশ কার্যকর করার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের প্রকাশ্য অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ উদ্বেগজনক।’ ওই বিবৃতি অনুসারে, দুপুর প্রায় ১.৩০ মিনিটে আদালতে আদেশটি ঘোষণা করা হয়। শুক্রবার গিল্ড জানায়, আদালতের ওয়েবসাইটে প্রতিবেদনটি আপলোড করার আগেই ইউএনআই-এর প্রাঙ্গণে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী এসে পৌঁছায়। সংস্থাটি আরও বলে, ‘কর্মরত অবস্থায় নারী কর্মীসহ সাংবাদিকদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হয়।’
ইউএনআই-এর সাংবাদিকদের অভিযোগ, তাঁদের কোনো নোটিশ দেখানো হয়নি এবং উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার সময় নারী সাংবাদিক-সহ কয়েকজন কর্মীকে হেনস্থা করা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে দিল্লি পুলিশ।

গিল্ড বলেছে, ‘প্রশাসনের এই তৎপরতা এবং বিপুল পরিমাণ শক্তি প্রদর্শন গণমাধ্যমের পক্ষে ভীতিকর। এই পদক্ষেপ শুধু ইউএনআই-এর গ্রাহকদের কাছে সংবাদ প্রচারই বন্ধ করেনি, বরং সংস্থাটির ভবিষ্যৎ এবং শত শত সাংবাদিকের কর্মজীবনের ওপরও কালো ছায়া ফেলেছে।’
পিসিআই একটি পৃথক বিবৃতিতে বলেছে, বেশ কয়েকজন সাংবাদিক অভিযোগ করেছেন যে, তাঁদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র তুলে নেওয়ারও অনুমতি দেওয়া হয়নি। পিসিআই ক্ষতিগ্রস্ত সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়িয়েছে। পরিষ্কার জানিয়েছে, প্রশাসনের সংযম দেখানো উচিত ছিল৷ কারণ, কর্মরত সাংবাদিকরাই তাদের জানিয়েছিলেন যে, আদালতের আদেশের পরেও জায়গাটি খালি করার জন্য এখনও তাদের কিছু জানানো হয়নি…। উল্লেখ্য, হাইকোর্ট শুক্রবার (২০ মার্চ) দিল্লির রফি মার্গে ইউএনআই-কে দেওয়া জমি বরাদ্দের বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, সংস্থাটি চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ওই প্লটে কোনও ভবন নির্মাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং কার্যত ‘মূল্যবান সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে।’
(সূত্র: দ্য হিন্দু)

193 Views