ওয়েব ডেস্ক : চুল-দাড়ি কেটে প্রতিজ্ঞা পালন করলেন প্রবীণ সাংবাদিক, নূতন জগৎ পাক্ষিক সংবাদপত্রের সম্পাদক চিত্তরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়। সোমবার বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ নিজের বাসভবনে ক্ষৌরকার ডেকে তাঁর প্রতিজ্ঞা পালন করলেন তিনি। এদিন চুল-দাড়ি কামিয়ে ফেলে নতুন সরকারের কাছে সুশাসন দেওয়ার দাবি জানালেন। তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন স্বৈরাচারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অপশাসনের অবসান হলে চুল-দাড়ি কামাবেন তিনি। একসময় বামফ্রণ্টের স্বৈরাচারী অপশাসনের অবসান চেয়েও সরব হয়েছিলেন চিত্তবাবু। কিন্তু পরে তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনে লাগামছাড়া দুর্নীতি, সিন্ডিকেট রাজ, তোলাবাজির বিরুদ্ধে গর্জে ওঠেন তিনি। ২০২০ সালে করোনা অতিমারির সময়ে তাঁর স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান স্বাধীনতা সংগ্রামী সুধীর কুমার চ্যাটার্জি স্মৃতি ভবন দখল করে নেয় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। উল্লেখ্য, সরকারি প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষকতা করার পাশাপাশি সাংবাদিকতা ও নানান সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন তিনি। এসব কর্মকাণ্ডের বিকাশের লক্ষ্যে ২০০৩ সালে হাবড়া থানা এলাকার সংহতিতে বিদ্যাসাগর পল্লীতে নিজের সঞ্চিত অর্থ ব্যয় করে ২১ শতক জমি কিনে তিনি গড়ে তুলেছিলেন সুধীর কুমার চ্যাটার্জি স্মৃতি ভবন। সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ, প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণ শিবির, শারীরশিক্ষা প্রশিক্ষণ শিবির-সহ নানান ধরনের কর্মকাণ্ড সংগঠিত করা হতো এই ভবনে। সংহতির এই বাড়িটি মাস্টারমশায়ের আশ্রম নামে পরিচিত ছিল। করোনা অতিমারির সময়ে চিত্তরঞ্জন চট্টোপাধ্যায় মারা গেছেন প্রচার করে ওই ভবনটি দখল করে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা।
এদিন চিত্তরঞ্জন চট্টোপাধ্যায় জানান, তখন তাঁর বয়স ৮০ পেরিয়েছে। তিনি ও তাঁর স্ত্রী দুজনেই অসুস্থ। স্ত্রী শয্যাশায়ী। ওই পরিস্থিতিতে বাইরে বেরিয়ে তাঁর ওই বাড়ি দখলের বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো অবস্থা ছিল না। ঘরে বসে হাবড়া থানা, জেলাশাসকের দফতর, মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে চিঠি লিখে তাঁর ওই বাড়ি দখলের বিষয়ে জানান। কিন্তু কোনও দফতর থেকেই কোনও সাড়া পাননি। তখন প্রতিজ্ঞা করেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বৈরাচারী শাসন, সিন্ডিকেট রাজ-এর অবসান ঘটলে চুল-দাড়ি কেটে প্রতিবাদ জানাবেন তিনি এবং নতুন সরকারের কাছে তাঁর জমি উদ্ধারের জন্য দাবি করবেন। সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের সামনে এদিন চুল-দাড়ি কামিয়ে ফেলেন তিনি। এখানেই শেষ নয়, কামিয়ে ফেলা চুল-দাড়ি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে ডাকযোগে পাঠিয়ে দেবেন বলেও জানান। একই সঙ্গে রাজ্যের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও রাজ্যপালের কাছেও তাঁর বাড়ি দখলের বিষয় জানিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ করার দাবি করে চিঠি পাঠাবেন তিনি। ৮৩ বছর বয়সী প্রবীণ সাংবাদিকের এই অভিনব প্রতিজ্ঞা পালন অবাক করেছে ক্ষৌরকারকেও। এদিন তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই পেশায় যুক্ত থাকলেও এমন প্রতিজ্ঞা পালনে চুল-দাড়ি কামানোর ঘটনা তাঁর জীবনে এই প্রথম ঘটল।

