ওয়েব ডেস্ক : আজ ১৪ জুন মধ্যপ্রদেশের নর্মদাপুরম জেলার একটি আদালত মহারাষ্ট্রের অমরাবতীর বাসিন্দা নাজির আহমেদকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে ১৪ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। ঘটনাটি ২০২২ সালের ৩ আগস্ট সিওনি মালওয়ার বারাখাদ গ্রামের কাছে ওই গণপিটুনির ঘটনাটি ঘটেছিল। সেখানে গবাদি পশু পরিবহণের সময় একদল লোক আহমেদের ওপর হামলা চালায়। ওই গাড়িতে থাকা অন্য দুজন ব্যক্তি হামলায় প্রাণে বেঁচে যান। ‘দ্য অবজার্ভার পোস্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তাবাসসুম খান এই রায় ঘোষণা করেন। আদালত হত্যা, হত্যার চেষ্টা, দাঙ্গা এবং বেআইনিভাবে আটকে রাখার মতো অভিযোগে অভিযুক্ত ১৪ জনকেই দোষী সাব্যস্ত করে। সরকার পক্ষ প্রমাণ করে যে, গবাদি পশু অবৈধভাবে পরিবহন করা হচ্ছে—এমন সন্দেহে একদল লোক ট্রাকটির গতিরোধ করে এবং এর আরোহীদের ওপর হামলা চালায়। তদন্তে জানা যায় যে, নাজির আহমেদ গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ট্রাকচালক শেখ লালা-সহ বেঁচে যাওয়া দুজন ব্যক্তি হামলার ঘটনার বিবরণ দিয়ে জবানবন্দি দেন। লালা জানান, ‘প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন লোক রাস্তা আটকে দেয় এবং কোনও কিছু জিজ্ঞাসা না করেই আমাদের মারধর শুরু করে।’ প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং সে সময় সামনে আসা ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হামলাকারীরা ভুক্তভোগীদের মারধর করছে এবং স্লোগান দিচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসে যে, স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার হস্তক্ষেপে বেঁচে যাওয়া দুই আরোহীর প্রাণ রক্ষা পায়। ঘটনার পর পুলিশ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে এবং তদন্ত শুরু করে।

এদিন আদালতে রায় ঘোষণার পর আদালত চত্বরের বাইরে আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দণ্ডপ্রাপ্তদের পরিবারের সদস্যরা রায়ের প্রতিবাদ জানান, এমনকি কেউ কেউ পুলিশের গাড়িটিকে চলে যাওয়া থেকে আটকাতে সেটির সামনে শুয়ে পড়েন। তাঁরা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের সন্তানরা গিয়েছিল গরু বাঁচাতে, কিন্তু এখন তাদেরই শাস্তি পেতে হলো।’ যদিও দ্য অবজার্ভার পোস্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ১৪ জন দণ্ডপ্রাপ্তকে কারাগারে নিয়ে যায়। অন্যদিকে হামলার শিকার ব্যক্তিরা দাবি করেন যে, কোনও উসকানি ছাড়াই এই হামলা চালানো হয়েছিল। ট্রাকচালক শেখ লালা তাঁর জবানবন্দিতে বলেন, ‘কোনও কিছু জিজ্ঞাসা না করেই তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়।’ জানা যায়, প্রায় তিন বছর ধরে চলা বিচার প্রক্রিয়ার শেষে সব অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এদিন রায় ঘোষণার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধে আদালত চত্বর ও এর আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আইনি কার্যক্রম শেষে কর্তৃপক্ষ দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের নিরাপদে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া নিশ্চিত করে এবং জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখে।

সৌজন্যে : ‘দ্য অবজার্ভার পোস্ট’ এবং ‘দ্য কুইন্ট’ (theobserverpost.com & thequint.com)

74 Views