ওয়েব ডেস্ক : যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশনরত জলবায়ু কর্মী সোনম ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়ে একটি জনস্বার্থ মামলা (পিআইএল) হয়েছে। বুধবার এই মামলায় কেন্দ্র এবং দিল্লি সরকারের কাছে জবাব চেয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ বিষয়টি জরুরি হওয়ার কারণে কেন্দ্র এবং দিল্লি সরকারকে আগামীকালের (১৬ জুলাই, ২০২৬) মধ্যেই আবেদনটির জবাব দিতে বলেছে। উল্লেখ্য, এই জনস্বার্থ মামলাটি করেছেন আইনজীবী ও সমাজকর্মী রাকেশ কুমার সাইনি। তিনি তাঁর আবেদনে দাবি করেন যে, বেশ কয়েকদিন অনশনের পর স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছে ওয়াংচুকের। তাঁর জীবন রক্ষার জন্য প্রশাসনকে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আহ্বান জানান। ওয়াংচুককে যথাযথ চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার জন্য কেন্দ্র ও দিল্লি সরকারকে নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানাতে আইনজীবী সাইনি ‘দ্য হিন্দু’ পত্রিকায় ১৪ জুলাই প্রকাশিত ‘অনশনরত ছাত্র হাসপাতালে, ধর্মঘট চলতে থাকায় ওয়াংচুকের ৮.২৫ কেজি ওজন কমেছে’ শিরোনামের একটি সংবাদ প্রতিবেদনের উপর নির্ভর করেন।

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা সংক্রান্ত বিষয়ে পদক্ষেপ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র সমর্থনে ২৮ জুন থেকে যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন করছেন ওয়াংচুক। সাইনির আবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ২০২৩-এর ১০৮ ধারা অনুযায়ী ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনা’র মতো একটি অপরাধ সংঘটিত হতে দিতে পারে না সরকার। সরকারের এই ব্যর্থতা কার্যত আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার শামিল হবে। তিনি আরও বলেছেন, ‘তার সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে ও জীবন বাঁচাতে’ সরকারকে অবশ্যই যথাযথ চিকিৎসা সেবা দিতে হবে, ‘এমনকি প্রয়োজনে জোরপূর্বক হলেও’ তা দিতে হবে। আবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই উদ্দেশ্যে, এটি নিশ্চিত করার জন্য সবচেয়ে সহজ উপায় হলো তাঁকে একটি সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া এবং তরল খাদ্যের মাধ্যমে মানবদেহের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি, ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ জোর করে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

সূত্র : দ্য হিন্দু (thehindu.com)

49 Views