ওয়েব ডেস্ক : ‘স্কুল ঠিক করো’ অভিযান শুরু করল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সেই সঙ্গে বেসরকারি স্কুলের ফি-এর উপর সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণের দাবিও জানাল। সিজেপি-র আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে শনিবার হিঙ্গোলি জেলায় তাঁর নিজ গ্রাম থেকে ‘স্কুল ঠিক করো’ অভিযান শুরু করেছেন। তাঁর অভিযোগ, সরকারি স্কুলগুলোর অবহেলার কারণে গরিব ছাত্রছাত্রীরা ভুগছে। এদিন তিনি বেসরকারি স্কুলের ফি-এর উপর সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণের দাবিও জানান। দীপকে ঘোষণা করেন যে, সরকারি হাসপাতালগুলোর স্বাস্থ্য সুবিধার অবস্থা মূল্যায়নের জন্য সিজেপি একই ধরনের একটি আন্দোলন শুরু করবে। তাঁর অভিযোগ, চিকিৎসায় বিলম্বের কারণে মানুষ ভোগান্তির শিকার হয়। সান্তুক পিম্পরি গ্রামের একটি জেলা পরিষদ স্কুল পরিদর্শনের পর তিনি এই অভিযান শুরু করেন, যেখানে তাঁর দাবি অনুযায়ী মৌলিক সুযোগ-সুবিধা অপর্যাপ্ত ছিল। তিনি বলেন, স্কুলটির শৌচাগারগুলোতে জলের সরবরাহ ছিল না, জানালাগুলো ভাঙা ছিল এবং ছাত্রছাত্রীদের বসার জন্য পর্যাপ্ত বেঞ্চ ছিল না। এদিন দীপকে সাংবাদিকদের সামনে প্রশ্ন তোলেন, ‘ভারত স্বাধীন হওয়ার ৮০ বছর পরেও যদি সরকারি স্কুলগুলোতে জলের মতো মৌলিক জিনিসই না থাকে, তাহলে দেশের উন্নতি হবে কীভাবে?’

তিনি বলেন, সরকারি স্কুলগুলোতে মৌলিক সুযোগ-সুবিধার প্রাপ্যতা নথিভুক্ত করার জন্য এই অভিযানে একটি চেকলিস্ট ব্যবহার করা হবে। সিজেপি-র আহ্বায়ক বলেন, ‘আমাদের কাছে একটি চেকলিস্ট-সহ একটি ফর্ম আছে, যেখানে উল্লেখ করা যাবে স্কুলে মৌলিক সুযোগ-সুবিধা আছে কি না। আমরা মহারাষ্ট্র এবং দেশব্যাপী অবস্থিত স্কুলগুলো থেকে তথ্য সংগ্রহ করব। তারপর আমরা সেই তথ্য সংকলন করব’। তিনি বলেন, এই প্রচার কর্মসূচির পরবর্তী পর্যায়ে তিনি মহারাষ্ট্রের অন্যান্য তালুকের সরকারি স্কুলগুলো পরিদর্শন করবেন। পাশাপাশি, শিক্ষার জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি তহবিল কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তাঁর অভিযোগ,বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার জন্য সরকারি স্কুলগুলো বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে এবং দাবি করেন যে, গত ১০ বছরে ভারতজুড়ে ৯৪,০০০-এরও বেশি সরকারি স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ‘শিক্ষার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেট হ্রাস করা হয়েছে’ অভিযোগ করে সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে উপলব্ধ সুযোগ-সুবিধার বৈষম্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি এবং বলেন যে, শিক্ষার্থীদের অর্থনৈতিক অবস্থা নির্বিশেষে সমান সুযোগ পাওয়া উচিত।

নিজের গ্রামের স্কুল পরিদর্শনের সময় দীপকে আরও অভিযোগ করেন যে, দৃশ্যত তার আসার কিছুক্ষণ আগেই স্কুলের শৌচাগারটি পরিষ্কার করা হয়। তিনি দাবি করেন, স্কুলটির জানালাগুলো ভাঙা ছিল এবং সেগুলোতে উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের ছবি সম্বলিত ব্যানার লাগানো ছিল। তাঁর কথায়, ‘এটা আমাদের দেশের ব্যবস্থার উপর একটি বিদ্রূপ। স্কুলে কোনও বেঞ্চ নেই। ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা বেশি হওয়া সত্ত্বেও মাত্র চারটি বেঞ্চ আছে। যদি বেসরকারি স্কুলে বেঞ্চ থাকে, তাহলে সরকারি স্কুলে কেন নয়’ প্রশ্ন তোলেন তিনি। দীপকে বেসরকারি স্কুলের ফি সর্বোচ্চ সীমায় নির্ধারণের দাবি জানান এবং বলেন যে, এই ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোর ধার্য করা ফি বহন করা অনেক পরিবারের পক্ষেই সম্ভব হয় না। দীপকে বলেন, মানুষ ফি বাবদ ১-১.৫ লক্ষ টাকা দিচ্ছে। গরিব শিশুরা কীভাবে শিক্ষা পাবে? তাই, বেসরকারি স্কুলের ফি সর্বোচ্চ সীমায় নির্ধারণ করা উচিত’।

সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে দীপকে অভিযোগ করেন যে, রোগীদের মেঝেতে ঘুমাতে বাধ্য করা হয় এবং অস্ত্রোপচারের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়, যেখানে সিটি স্ক্যানের জন্য অপেক্ষার সময় এক সপ্তাহ পর্যন্ত গড়াতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমরা স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত বিষয়গুলো তুলে ধরব। আমরা যখন সরকারি হাসপাতালগুলোতে যাই, তখন দেখি মানুষ (রোগীরা) মেঝেতে শুয়ে আছে। অস্ত্রোপচারের জন্য মানুষকে অপেক্ষা করতে হয়। একটি সিটি স্ক্যানের জন্য অপেক্ষা এক সপ্তাহ পর্যন্ত গড়ায়’। তিনি আরও বলেন, ‘সিজেপি গ্রামীণ এলাকার তরুণদের সরকারি পরিষেবা এবং শাসনব্যবস্থা সম্পর্কিত বিষয়গুলো উত্থাপনে সম্পৃক্ত করতে চায়। জনগণের উচিত তহবিলের ব্যবহার নিয়ে সরকারকে প্রশ্ন করতে এগিয়ে আসা। আমরা দেখব যে গ্রামীণ এলাকার যুবকরা এগিয়ে আসবে। দেশের রাজনীতি শুধু শহরের মানুষের দ্বারা নির্ধারিত হবে না, বরং গ্রামীণ এলাকার তরুণরাও এতে অংশগ্রহণ করবে’।

75 Views