ওয়েব ডেস্ক : বোনের মৃত্যুর প্রমাণ হিসেবে তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলার জন্য বোনের কঙ্কাল নিয়ে ব্যাঙ্কে হাজির হয়েছিলেন আদিবাসী বৃদ্ধ জিতু মুন্ডা। অভিযোগ, ব্যাঙ্ক কর্মীরা তাঁকে হয়রানি করেছে। মৃত্যুর নথিপত্র বিষয়ে সচেতনতার অভাবে কবর থেকে বোনের কঙ্কাল তুলে নিয়ে ব্যাঙ্কে হাজির হন তিনি। গত ২৭ এপ্রিল এ খবর প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে।

এমন ঘটনা ঘটেছে ওড়িশার কেওনঝরের পাটনা ব্লকের অন্তর্গত মালিপাসি এলাকায়। জিতু মুন্ডা (৫৫) নামে পরিচিত ওই ব্যক্তি দুই মাস আগে মারা যাওয়া তাঁর বোন, দিয়ানালি গ্রামের কালারা মুন্ডার জমানো টাকা তোলার জন্য ওড়িশা গ্রামীণ ব্যাঙ্কে গিয়েছিলেন। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ দাবি প্রক্রিয়া করার আগে তাঁকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে বলেন।

আনুষ্ঠানিক পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত না থাকার জন্য এবং নথিপত্রের প্রয়োজনীয়তা বুঝতে না পেরে জিতু মুন্ডা তাঁর বোনের দেহাবশেষ কবর থেকে তুলে একটি বস্তায় ভরে প্রমাণ হিসেবে ব্যাংকে নিয়ে আসেন। তাঁর এই কাজ গ্রাহক ও কর্মীদের হতবাক করে দেয়।
খবর পেয়ে পাটনা থানার পুলিশ হস্তক্ষেপ করে। ব্যাঙ্ক কর্মীরা জানান, ‘মূলত সচেতনতার অভাবেই এই ঘটনা ঘটেছে।’ তারা আরও বলেন যে, টাকা তোলার সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে মুন্ডাকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরে তিনি বাড়ি ফিরে মৃতদেহটি পুনরায় সমাহিত করেন।
পাটনা বিডিও অফিস থেকে আশ্বাস দেওয়া হয় যে, অ্যাকাউন্টের টাকা দাবি করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি উত্তরাধিকারীর শংসাপত্র এবং অন্যান্য নথি পেতে তাঁকে সহায়তা করা হবে।

রবিবার সংবাদ মাধ্যমকে জিতু মুন্ডা জানান যে, ব্যাঙ্ক কর্মীদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা চান না তিনি।
কেওনঝার জেলার পাটনা ব্লকের এরেণ্ডেই গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত দিয়ানালি গ্রামের বাসিন্দা জিতু মুন্ডা বলেন, ‘আমি আমার বোনের কঙ্কাল ব্যাঙ্কে নিয়ে যাওয়ার পর তাঁর নামে জমা করা টাকা পেয়েছি। ব্যাঙ্ক আমার বোনের মৃত্যুর প্রমাণ পেয়েছে এবং সঙ্গে সঙ্গে টাকাটা ছেড়ে দিয়েছে। এটা সত্যি যে তারা আমাকে হয়রানি করেছে। কিন্তু টাকা পাওয়ার পর আমি তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিতে চাই না। তারা আমাদের বাড়িতেই আমাকে নগদ টাকা পৌঁছে দিয়েছে।’ পুরো ঘটনার জন্য লজ্জিত নন উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, টাকা পাওয়ার পর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কোনও মানে নেই।
সূত্র : পিটিআই

77 Views