ওয়েব ডেস্ক : জয়পুরে একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালীন আক্রান্ত হলেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। অভিযোগ, কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে একাধিকবার চড় মেরেছে। সোমবার এ ঘটনা ঘটেছে রাজস্থানের জয়পুরে শহিদ স্মারকে। দীপকের ওপর এই হামলার ঘটনায় সেখানে চরম বিশৃঙ্খলা ও ধস্তাধস্তির সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুই যুবককে আটক করে পুলিশ। জানা যায়, ঘটনাটি ঘটার সময় সমর্থকরা অভিজিৎ দীপকে-কে কাঁধে বহন করছিলেন। ‘নিট’ (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, বেকারত্ব ও দুর্নীতির মতো বিষয়গুলোর প্রতিবাদে এদিন ‘শহীদ স্মারক’-এ আয়োজিত এই বিক্ষোভ সমাবেশে বিপুল সংখ্যক তরুণ অংশ নেন বলে খবর। এদিন বিক্ষোভস্থলে পৌঁছে সমর্থকদের কাঁধে চড়ে যখন দীপকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন ভিড়ের মধ্যে থাকা কিছু দুষ্কৃতকারী তাঁর সাথে ধস্তাধস্তি করে, তাঁকে একাধিকবার চড় মারে এবং নিচে নামানোর চেষ্টা করে। পুলিশ হস্তক্ষেপ করার আগেই দীপকের সমর্থকরা অভিযুক্তদের ধরে ফেলে এবং তাদের ওপর পাল্টা চড়াও হয়। এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে দীপকে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং হামলাকারীদের ওপর কোনও আঘাত না করার জন্য বিক্ষোভকারীদের প্রতি আবেদন জানান। সিজেপি (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা বলেন, শারীরিক আক্রমণ হলো ‘ভয় ও কাপুরুষতার’ লক্ষণ। তিনি বলেন, ‘আমি গান্ধী ও আম্বেদকরের অনুসারী এবং শান্তি ও ভালোবাসার পথ ধরেই এই লড়াই চালিয়ে যাব।’

নিজের ‘এক্স’ (X) অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় দীপকে তাঁর সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি থেকে তাঁরা যেন মনোযোগ না হারান। তিনি বলেন, এই হামলাটি ছিল সিজেপি (CJP)-কে ভয় দেখানো এবং মূল বিষয়গুলো থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নেওয়ার একটি কৌশল। তিনি আরও যোগ করেন, যারা বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে, তাদের আমি বলতে চাই—‘দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন’। এদিন ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে এই সভায় যোগ দেয় তরুণরা এবং NEET, CBSE, CUET ও SSC-র মতো বড় বড় পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের জেরে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন। সমাবেশে তাঁর বক্তৃতায় শিক্ষা-সংক্রান্ত বিষয়গুলো পরিচালনার পদ্ধতির সমালোচনা করেন দীপকে এবং রাজস্থানের এক মন্ত্রীর মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন৷ উল্লেখ্য, ওই মন্ত্রী ‘নিট’ (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে ‘বড় কোনো ঘটনা নয়’ বলে অভিহিত করেছিলেন। এছাড়াও এদিন দীপকে গত বছর ঝালাওয়ারে একটি সরকারি স্কুলের ভবন ধসে পড়ার ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন, যাতে সাতজন শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছিল। প্রসঙ্গত, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণ দেখিয়ে পুলিশ প্রথমে এই বিক্ষোভ কর্মসূচির অনুমতি দিতে অস্বীকার করলেও, পরে শর্তসাপেক্ষে তা মঞ্জুর করে। বেশ কিছু বিধিনিষেধের শর্তে এই কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়। যার মধ্যে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ৮০০ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা, শব্দদূষণ সংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলা এবং সমাবেশস্থল থেকে কোনও মিছিল বের না করার শর্ত রয়েছে। এসব শর্তে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি করার অনুমতি দেয় পুলিশ।

সৌজন্যে : দ্য হিন্দু (thehindu.com)

72 Views