ওয়েব ডেস্ক : নীট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর বা আরশোলা জনতা পার্টির অবস্থান বিক্ষোভ আজ শনিবার ২২ দিনে পড়ল। সিজেপির সমর্থনে শিক্ষাবিদ ও জলবায়ু কর্মী সোনম ওয়াংচুক ও বেশ কয়েকজন পড়ুয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য যে অনশন ধর্মঘট শুরু করেছিলেন, তা আজ ১৪ দিনে পা রাখল। অথচ, এরপরও সরকার এনিয়ে সম্পূর্ণ উদাসীন। শুক্রবার সোনম ওয়াংচুক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, তাঁর অনির্দিষ্টকালের অনশনের ১৩তম দিনে পড়েছে। তাঁর ক্ষুধা এখন ‘স্থিতিশীল’ হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রতিবাদস্থল থেকে তাঁকে সরানোর চেষ্টা করে যেন তাঁর সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করা না হয়। পরীক্ষা সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ও এনিয়ে সরকারের জবাবের দাবিতে যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র আন্দোলনের সমর্থনে অনশন করছেন তিনি। এদিন সাংবাদিকদের ওয়াংচুক বলেন, ‘আজ শুক্রবার অনশনের ১৩তম দিন। আমি ভালো বোধ করছি। আমার ক্ষুধা এখন স্থিতিশীল। শুরুর দিনগুলো কঠিন হয়। কারণ, শরীর তখন অনশনের সঙ্গে মানিয়ে নেয়। কিছুটা ক্লান্তি আছে, তবে এছাড়া আমি ঠিক আছি।’ তিনি জানান, দীর্ঘদিনের এই অনশনের ফলে চর্বির পাশাপাশি তাঁর পেশীর ভরও কমেছে, কিন্তু তিনি এখনও উদ্যম অনুভব করছেন। তিনি বলেন, ‘চর্বির পাশাপাশি আমার পেশীও কমেছে। হাড় বেরিয়ে আসছে, কিন্তু আমি এখনও নিজেকে উদ্যমী মনে করছি।’
স্বাস্থ্য পরিস্থিতির অবনতি হলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে ওয়াংচুক বলেন, তিনি স্বেচ্ছায় প্রতিবাদস্থলে আছেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে সরানোর কোনও কারণ নেই। তিনি বলেন, ‘আমি জানি না কেন তারা আমাকে সরানোর চেষ্টা করবে। আমি এখানে স্বেচ্ছায় আছি এবং আমার জীবনের কোনও ঝুঁকি নেই। যদি তারা আমাকে সরিয়ে দেয়, তবে তা আমাদের অধিকারের লঙ্ঘন হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করছি। দেশ ও বিশ্ব আমাদের গণতন্ত্রের অবস্থা দেখছে। এটি কোনও অনুগ্রহ নয়, এটি আমাদের অধিকার। সংবিধানের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার অধিকার আমাদের রয়েছে এবং আমি আশা করি সেই অধিকারকে সম্মান জানানো অব্যাহত থাকবে।’ ওয়াংচুক জানান, পরীক্ষা সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়ে পড়ুয়াদের আন্দোলনকে সমর্থন এবং লাদাখ সংক্রান্ত বিষয়গুলোর দ্রুত সমাধানের দাবিতে তিনি এই অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সমর্থনে এবং শিক্ষা সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়ে জবাবের দাবিতে আমি এখানে দাঁড়িয়ে আছি। আলোচনার মাধ্যমে লাদাখ ইস্যুটিতেও অগ্রগতি হয়েছে এবং এখন বিষয়টির একটি চূড়ান্ত সমাধান হওয়া উচিত। আর এটি চূড়ান্ত করার জন্য বর্ষাকালীন অধিবেশন একটি অত্যন্ত উপযুক্ত সময়।’
মে মাসে ‘নিট-ইউজি’ (NEET-UG) পরীক্ষা বাতিল হওয়ার ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ওয়াংচুক বলেন, এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করাই এই আন্দোলনের লক্ষ্য। তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন যে ২০ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। এমনটা হওয়া উচিত নয় যে, আগামী বছর এই সংখ্যা বেড়ে ৪০ বা ৮০-তে পৌঁছাবে। আমরা এখানে বসেছি যাতে এমন পরিস্থিতির উদ্ভব না হয়।’ তিনি আরও বলেন, বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর আগেই প্রধানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হলে তা তরুণদের আস্থা পুনরুদ্ধারে সরকারের জন্য সহায়ক হবে। সরকার যদি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে, তবে তারা আবারও তরুণদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে। বর্তমানে তরুণদের মধ্যে যে ক্ষোভ রয়েছে, তা রাজনৈতিকভাবে তাদের ক্ষতি করবে। সংসদের অধিবেশন শুরুর আগেই নিজেদের স্বার্থে তাদের এই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। যদি তারা তা না করে, তবে আমাদের যা করণীয় আমরা তা-ই করব।
অন্যদিকে, সিজেপি (CJP)-র মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা জানান, অনশন শুরুর পর থেকে ওয়াংচুকের ওজন প্রায় ৭.৫ কেজি কমে গেছে এবং তাঁর রক্তে শর্করার মাত্রা ক্রমাগত কম থাকছে। তিনি বলেন, ‘দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তাঁর শারীরিক শক্তি কমে আসছে। হাঁটাচলার সময় তিনি বেশ দুর্বলতা অনুভব করছেন এবং কথা বলতেও কষ্ট হচ্ছে। পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপের দিকে যাচ্ছে। আমাদের মেডিকেল টিম তাঁর ওপর কড়া নজর রাখছে এবং আমরা আশা করছি সরকার শীঘ্রই আমাদের কথা শুনবে।’ রাঙ্কা জানান, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবিতে অনড় রয়েছেন তাঁরা। তিনি বলেন, ‘সরকার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কোনও আলোচনা শুরু করেনি। সরকারের কোনও সাড়া না পাওয়া গেলে ২০ জুলাই সংসদের উদ্দেশ্যে প্রস্তাবিত পদযাত্রা কর্মসূচি সিজেপি চালিয়ে যাবে।’ উল্লেখ্য, ওয়াংচুক গত ২৮ জুন এই আন্দোলনে যোগ দেন এবং তখন থেকেই অনির্দিষ্টকালের অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার সিজেপি ঘোষণা করে যে, ২০ জুলাই অর্থাৎ সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর দিন সংসদ অভিমুখে একটি শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা করা হবে। এতে সারা দেশ থেকে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও নাগরিকদের অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে।
সূত্র : ইকনোমিক টাইমস (economictimes.com)


